সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০ || ২৯ আষাঢ়, ১৪২৭ || ২২শে জিলকদ, ১৪৪১ হিজরি

কোরআন শিক্ষার আসর, প্রতিদিন ৫ আয়াত (পর্ব-৩০)


প্রিয়নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা কোরআনের ব্যাপারে যত্নবান হও। আল্লাহর কসম! রশি ছেড়ে দেয়ার পর উট যেমন দ্রুত পালিয়ে যায়, অবহেলাকারীদের থেকে কোরআন তার চেয়েও দ্রুত হারিয়ে যায়।’ (মেশকাত-২১৮৭)।

এক হাদিসে কোরআনের তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন নিয়মিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অন্যথায় কোরআনের বরকত থেকে বিরত হওয়ার ঘোষণা এসেছে।

রাসূল (সা.) মানুষের মন পরিবর্তনের যে ব্যবস্থার কথা বলেছেন, এ ব্যাপারে যত্মবান মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ইতিহাস সাক্ষী কোনো বেদ্বীন যখন কোরআন গবেষণায় লেগেছে, অল্প দিনের ব্যবধানে সে কোরআনের ছায়ায় এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তাহলে যারা ঈমানের নূরে আলোকিত, তাদের জীবন আরো দ্রুত পরিবর্তন হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই সবাইকে কোরআনের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আমরা মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন করতে পারি। এবং কঠিন কিয়ামতের দিন এই কোরআন আমাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।

আরো পড়ুন >>> কোরআন শিক্ষার আসর, প্রতিদিন ৫ আয়াত পর্ব-২৯ (সূরা আল বাকারার ১৫১-১৫৫ নম্বর আয়াত)

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।’ (সুনান আত-তিরমিযী: ২৯১০)।

অতএব, আপনি কি নিজেকে বদলাতে চান? জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে চান? আপনি কি মরেও অমর হয়ে থাকতে চান? সর্বোপরি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনি যদি সফল হতে চান; তাহলে আজ থেকেই যুক্ত হোন আমাদের পবিত্র কোরআন শিক্ষার এই আসরে।

পবিত্র কোরআন শিক্ষার আসরের ধারাবাহিক আলোচনায় আজ থাকছে সূরা আল বাকারার ১৫৬-১৬০ নম্বর পর্যন্ত আয়াত।

সূরা আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة)। এটি পবিত্র কোরআনুল কারিমের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬টি এবং রূকুর সংখ্যা ৪০টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
অর্থ: শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(১৫৬)
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُواْ إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّـا إِلَيْهِ رَاجِعونَ
অর্থ: যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো।

(১৫৭)
أُولَـئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَـئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
অর্থ: তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েত প্রাপ্ত।

(১৫৮)
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَآئِرِ اللّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
অর্থ: নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তায়ালার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কাবা ঘরে হজ বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোনো দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তায়ালার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।

(১৫৯)
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِن بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَـئِكَ يَلعَنُهُمُ اللّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ
অর্থ: নিশ্চয় যারা গোপন করে, আমি যেসব বিস্তারিত তথ্য এবং হেদায়েতের কথা নাজিল করেছি মানুষের জন্য কিতাবের মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করার পরও; সে সমস্ত লোকের প্রতিই আল্লাহর অভিসম্পাত এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীগণের ও।

(১৬০)
إِلاَّ الَّذِينَ تَابُواْ وَأَصْلَحُواْ وَبَيَّنُواْ فَأُوْلَـئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
অর্থ:তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সমস্ত লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু।

দোয়া: হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার সন্তুষ্টি অর্জন করতে, তোমাকে ভালভাবে জানতে, সঠিক পথের দিশা পেতে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে নিয়মিত পবিত্র কোরানের ০৫টি আয়াত অর্থসহ পড়ছি। তুমি আমাদের এ আমলটিকে কবুল করে নাও। এবং শয়তানের শয়তানি ও বদনজর থেকে হেফাজত রাখো। আমিন। চলবে…

Sharing is caring!

শেয়ার করুনঃ
shares