সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০ || ২৯ আষাঢ়, ১৪২৭ || ২২শে জিলকদ, ১৪৪১ হিজরি

ওজু ছাড়া নামাজ পড়ে ফেললে করণীয় যা


‘নামাজকে বলা হয় জান্নাতের চাবি আর ওজুকে বলা হয় নামাজের চাবি। পবিত্র কোরআনুল কারিমে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চই আল্লাহ তওবাকারীকে ভালবাসেন এবং যাহারা পবিত্র থাকে তাদেরকেও ভালবাসেন।’

ইসলামি বিধান মতে ওজু হলো দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের একটি উত্তম পন্থা। যার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায় এবং এর মাধ্যমে  ইসলামের গুরুত্বপূর্ন ইবাদাতগুলোর মধ্যে বিশেষ করে নামাজ আদায় ও কোরআন তেলাওয়াত করা হয়।

প্রশ্ন: ওজু ছাড়া নামাজ হয় না; বিষয়টি আমার জানা আছে। কিন্তু কখনো কখনো নামাজ শেষে আমার মনে পড়ে যে, আমি ওজু ছাড়া নামাজ পড়েছি। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? ওজু করে নতুনভাবে আবার কি নামাজ পড়বো?

উত্তর: এক্ষেত্রে আপনার ওপর ওয়াজিব (আবশ্যক করণীয়) হলো, ওজু করে পুনরায় নামাজ আদায় করা। ফিকাহবিদরা এ অভিমতের ওপর ঐক্যমত প্রকাশ করেছেন। কারণ পবিত্রতা নামাজ শুদ্ধ হওয়ার পূর্বশর্ত।

হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কারো যদি ওজু ভেঙে যায়, তাহলে পুনরায় ওজু করার আগ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তার নামাজ কবুল করেন না।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর: ৬৯৫৪; মুসলিম, হাদিস নম্বর: ২২৫)।

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘পবিত্রতা ছাড়া কোনো নামাজ কবুল করা হয় না।’ (মুসলিম, হাদিস নম্বর: ২২৪)।

প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ও ফিকাহবিদ ইমাম শরফ আন-নববী (রহ.) বলেন, ‘ওজুহীন ব্যক্তির জন্য নামাজ পড়া হারাম; এ ব্যাপারে আলেম-উলামারা একমত হয়েছেন। তারা এ ব্যাপারেও ঐক্যমত প্রকাশ করেছেন যে, এমন ব্যক্তির নামাজ শুদ্ধ হবে না; ওজু না থাকা সম্পর্কে সে অবগত থাকুক কিংবা অজ্ঞ হোক। কিংবা ওজু না থাকার কথা ভুলে গিয়ে থাকুক। তবে সে যদি একদম অজ্ঞ হয় কিংবা পুরোপুরি ভুলে গিয়ে থাকে, তাহলে তার কোনো গুনাহ হবে না। আর যদি তার ওজু না-থাকার বিষয়টি ও ওজু ছাড়া নামাজ হারাম হওয়ার বিষয়টি জেনেও সে নামাজ পড়ে এবং পড়ে থাকলে পুনরায় আদায় না করে, তাহলে সে জঘন্য গুনাহে লিপ্ত।’ (আল-মাজমু, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৭৯)।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সব সময় নামাজের আগে ওজুর কথা মনে থাকার তাওফিক দান করুন। এবং সর্ব সময় শয়তানি ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজতে রাখুন। আমিন।

Sharing is caring!

শেয়ার করুনঃ
shares